Category: album

  • সুরা ফাতিহা


    সূরা ফাতিহা নিয়ে একটি চমৎকার তথ্য:

    [সূত্র : প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ২ লেখক: আরিফ আজাদ
    অংশ: “কুরআন কেন আরবী ভাষায়”]

    “সূরা ফাতিহার সাতটি আয়াত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর মাঝের আয়াতে এমন কিছু বলেছেন, যেটি সূরা ফাতিহার প্রথম অংশ এবং পরের অংশ, দুই অংশেরই প্রতিনিধিত্ব করে।”

    “প্রথম তিনটি আয়াতে বলা হচ্ছে,
    ‘যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার যিনি জগৎসমূহের অধিপতি।’
    ‘যিনি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু।’
    ‘যিনি বিচার দিনের মালিক।’

    চতুর্থ আয়াতে বলা হচ্ছে,
    ‘আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।’

    এটি মাঝের আয়াত। এটি কোনো ভাগেই পড়বে না। এটিকে কেন্দ্রবিন্দু বলা যেতে পারে। এই আয়াত দিয়েই প্রথম আর পরের ভাগ যাচাই করা যাবে।

    শেষ তিন আয়াতে বলা হচ্ছে,
    ‘আমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন।’
    ‘ওই সব লোকদের পথে, যাদের আপনি নিয়ামত দান করেছেন।’
    ‘তাদের পথ নয়, যাদের ওপর আপনার অভিশাপ নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট। ‘

    মাঝখানের, অর্থাৎ চার নম্বর আয়াতে দুটো অংশ আছে। ‘আমরা তোমারই ইবাদত করি’ এতটুকু একটি অংশ, এবং ‘তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি’ এতটুকু একটি অংশ।
    আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই আয়াতের প্রথম অংশ সূরার প্রথম তিন আয়াতের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং পরের অংশ প্রতিনিধিত্ব করছে সূরার পরের তিন আয়াতের।
    এই আয়াতের প্রথম অংশ দিয়ে ওপরের তিন আয়াতের যাচাই করা যাক: "আমরা তোমারই ইবাদত করি।"

    আমরা কার ইবাদত করি?

    ‘সকল প্রশংসা যার এবং যিনিই সৃষ্টিজগতের অধিপতি।’ [সূরা ফাতিহার ১ম আয়াত]

    আমরা কার ইবাদত করি?

    ‘যিনি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু’ [সূরা ফাতিহার ২য় আয়াত]

    আমরা কার ইবাদত করি?

    ‘যিনি বিচারদিনের মালিক।’ [সূরা ফাতিহার ৩য় আয়াত]

    এবার আসা যাক ওই আয়াতের পরের অংশে। যেখানে বলা হচ্ছে— "তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।"

    আমরা কীসের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি?

    ‘যাতে আমরা সরল পথে চলতে পারি।’ [সূরা ফাতিহার ৫ম আয়াত]

    আমরা কীসের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি?

    ‘যাতে আমরা নিয়ামতপ্রাপ্তদের দলে ভিড়তে পারি।’ [সূরা ফাতিহার ৬ষ্ঠ আয়াত]

    আমরা কীসের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি?

    ‘যাতে আমরা অভিশপ্ত এবং পথভ্রষ্টদের দলের অন্তর্ভুক্ত না হই।’ [সূরা ফাতিহার ৭ম আয়াত]

    চিন্তা করে দেখুন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই ছোট্ট সূরাটার মধ্যেও কীরকম ভাষার মান, সাহিত্য মান দিয়েছেন। প্রথমে কিছু কথা, মাঝখানে একটি বাক্য, শেষে কিছু কথা; কিন্তু মাঝখানের সেই বাক্যটিকে এমনভাবে সাজিয়েছেন এবং এমনভাবে বলেছেন, যেটি প্রথম ও শেষ—দুটো অংশের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
    সুবহানআল্লাহ…

  • মেয়েরা কি চায়..?

    সবমেয়েরাপ্রেমিকাহয়েথাকতেচায়কিন্তুপারেকি?

    🍂মেয়েদের বয়স যতই সময়ের সাথে গুণ হোক না কেন মেয়েরা আসলে প্রেমিকাই থেকে যায়।
    প্রথম প্রথম যে অভিমানী প্রেমিকা টা থাকে আপনি বুঝেন না সে প্রেমিকাই রয়ে যায় মেয়েরা।
    সে আবদার করে, অভিমান করে, অভিনয় ও করে, ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।

    যখন আপনি তাকে সে প্রেমিকা থেকে অন্য কিছু হওয়ার জন্য তাড়া দেন সে চুপসে যায়। তাকে বার বার মনে করিয়ে দেন তুমি আর প্রেমিকা নও তুমি বউ, বাচ্চার মা, ঘরের লক্ষী, অন্নপূর্ণা।

    সে তার প্রেমিকা থাকার ইচ্ছেটা লুকিয়ে ফেলে। হারিয়ে নয়।

    মেয়েরা যত সংসারী হোক না, শাড়ির ভাজে চিঠি চায়, বুক পকেটে মাসের হিসেবের রশিদ টার সাথে গোলাপ চায়।
    একটু আহ্লাদীপনা চায়।
    তুমি যখন ধমক দাও। এইসব কি?

    সেপ্রেমিকাকেলুকিয়েফেলে,#হারিয়েনয়।

    মেয়েরা প্রেমিকার মতো মাঝ বুকে খনন করতে চায় সারাদিনের ক্লান্তি শেষে।
    তুমি যখন ক্লান্ত হও এলো চুলে বিলি কাটতে চায়।
    নখে আচড় কেটে নাম লিখতে চায়৷
    তুমি যখন বিরক্তি দেখাও।

    সেপ্রেমিকাকেলুকিয়েফেলে,#হারিয়েনয়।

    মেয়েরা প্রেমিকার মতো সময় চায়। থাকো না ব্যস্ত। একটা ফোন চায়, সেটা কি লাগবে তার লিস্টের নয়।
    কি গো আজকাল নীল শাড়ি টা পড়ো না যে?
    তোমার বুঝার ক্ষমতা নেই কত কাজের পাহাড় টপকে সে আলমারী খুলে নীল, সবুজ, মেরুন শাড়িটা রোদে দিবে। ভাজ ঠিক ভাঙ্গবে তুমি আসার আগে।
    তাও তোমরা প্রেমিকা খুঁজে নিতো জানো না।

    শুধু অভিযোগ কর আগের মতো নেই তুমি।

    মেয়েদের মন বুঝা খুব কঠিন।
    এত সহজ সমীকরণ আর কোথাও নেই। সত্যি নেই।

    বিশ্বাস কর মেয়েরা প্রেমিকা হয়েই থাকতে চায়।
    যদি ছোট্ট একটা জগৎ সে প্রেমিকা রয়ে যেতে পারে তার চেয়ে ভাগ্যবান আর নেই। সে তোমাকে পৃথিবীর সব টুকু সুখ এনে দেবে। তোমার মতো ভাগ্যবান আর কেউ হবে না তখন।

    কিন্তু বড় অল্প সময়ের জন্যই মেয়েরা প্রেমিকা হয়। সে সময় টা মেয়েরা বড় যত্নে রাখে। প্রেমিক টা কে বড় আগলে রাখে।
    হয় না থাকা প্রেমিকা হয়ে।
    যখন থেকে বুঝানো হয় তুমি আর প্রেমিকা নও।
    তখন থেকে লুকিয়ে ফেলে।

    বিশ্বাস কর, খুব সহজ সে লুকিয়ে ফেলা প্রেমিকা খোঁজা,
    চোখের সামনেই থাকবে। যদি তোমার নজর না পড়ে তাতে ধুলো জমবে। বড্ড অভিমানী যে।

    জানো? খুব বেশি কিছু করতে হয় না খিটখিটে যাওয়া বদ মেজাজী বউকে প্রেমিকা বানাতে।

    ঐ যে সস্তা ইমোশন যাকে বলো, সেসবেই দিব্যি বানানো যায়।
    শুধু চোখের দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট চুমো। কিংবা কখনো পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানে ফু৷ একটা বেলির গাজরা কি খুব দামী বলো?

    কখনো দেখেছো কোন প্রেমিকাকে সোনার বালা চাইতে? তারা কাচের চুড়িই চেয়ে গেছে সে আদি কাল থেকে৷

    তুমি প্রেমিকাকে গিন্নি বানাও। তখন সোনা চায়।

    বিশ্বাস কর এক ডজন কাচের চুড়িতে প্রেমিকা বানিয়ে সে হাসির স্নিগ্ধতা পাবে, তিন ভরি বালাতে তুমি সে হাসিতে খাদ পাবে।

    মেয়েরা সত্যিই বড় অদ্ভুত হয়। তবে সমীকরণ টা সহজ। তুমি তালগোল পাকিয়ে জটিল কর।

    বিশ্বাস কর। মেয়েরা প্রেমিকা হয়ে থাকতেই চায়।
    তোমরা প্রেমিকা বানানো টা প্রথমের শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে তারপর কেন অবহেলা বানিয়ে ফেলো বলো তো?

    অনেক বউকে দেখবে, টাকা ক্রেডিট কার্ড, সোনা, দামী শাড়ি জামা, দামী রেস্টুরেন্টে প্রতি মাসে ডিনার কিংবা ওয়ার্ল্ডা ট্যুরে নিয়েও অভিযোগ ছাড়া কিছুই পাবে না। তাদের লোভী বলে সহজে ব্যাখা করে ফেলা যায়।

    আর কিছু মেয়ে নিজের একটা ছোট্ট ঘরের জন্য স্বামীর সম্মানের জন্য নিজের সবটা উজার করে, অভিযোগ নেই। তাদের দামী শাড়ি থাকে না, কিন্তু স্বামীর সাথে দারুন খুনসুটি থাকে। ঘরে কয়েক বছর পর পর কয় টা বেবি ফ্রক এলো সেটা ব্যাপার নয়। প্রায়শ তাদের ভেজা চুল ভোরের রোদে শুকায়।
    তারা অল্পতেই খুশি থাকে। কারন তারা প্রেমিকা থাকে। তাদের আবদারে ছোট্ট একটা বুক আছে। তাদের অভিমানের তীব্রতা আছে।

    সে লোভী শব্দ জুড়ে দেওয়া মেয়ে গুলোকে কি যত্নে প্রেমিকা লুকিয়ে রাখে কত অভিমানের মৌড়কে তা জানোই না। কিন্ত কি সহজ জানো তাদের প্রেমিকা বানানো?
    বড্ড সহজ। সে সরল অংকের মতোই।
    প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় বন্ধনীর যোগ বিয়োগ গুণ ভাগে তোমরাই জটিল করে ফেলো।
    কিন্তু সমাধানের জন্য কিচ্ছু লাগে না। সে বেসিক জ্ঞান টায় লাগে।

    জটিল কে আরো জটিল করে বিরক্ত হয়ে যাও। মাঝ পথেই ফেলে রাখ। কিন্তু ধৈর্য্য নিয়ে সমাধানে শেষে সে শূন্য কিংবা এক।

    শুধু যে প্রেম টা তুমি জানো তাতেই প্রেমিক থাকো সে প্রেমিকা পেয়ে যাবে।

    মেয়েরা কোন বয়সেই প্রেমিকা হতে ভুলে না। মাঝ বয়সী কোন নারী তাহলে সংসার নামক গন্ডি ছেড়ে বেরিয়ে যেত না৷
    আমরা কত দেখি মধ্য বয়েসীরা সংসার ছেড়ে হারিয়ে যায়।
    তারা কিভাবে প্রেমিক হয় তখন?

    ঐ যে মেয়েরা প্রেমিকাকে লুকিয়ে রাখে। হারিয়ে ফেলে না।

    তুমি তাকে প্রেমিকা বানিয়ে রাখো। তার রাজ্য একা রাজত্ব করবে তুমি৷ বিশ্বাস কর তুমি জানবে, তুমি মানবে পৃথিবীতে তোমার চেয়ে খুশী মানুষ দ্বিতীয় টি নেই৷

    বিশ্বাস কর, মেয়েরা আজীবন প্রেমিকা হয়েই থাকতে চায়।

    মেয়েরাপ্রেমিকাহয়েথাকতেচায়

    দোলনা_বড়ুয়

    Na Bola Kotha
    Rashida Akter
    Afsana Akter

  • #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধাঃ[#মুক্তিযুদ্ধের_১১টি_সেক্টর_সীমানা_ও_সেক্টর_কমান্ডার]

    মুক্তিযুদ্ধ  আর মুক্তিযোদ্ধা, যেন একটি মুদ্রার এপিঠ/ওপিঠ। এর একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটার আলোচনা করলে, স্বয়ংসম্পূর্ণ আলোচনা হবেনা বিধায় আমার আলোচনার বিষয়বস্তু #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধা ঠিক করা হয়েছে।তো শুরু করা যাকঃ

     যুদ্ধ মানেই কৌশল। যুদ্ধে যারা যত বেশি রণকৌশল দেখাতে পারবে, জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ততবেশি ঝুঁকবে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ১৯৭১ সালের ২৬ই মার্চ এদেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম এদেশের মানুষের কাছে ছিল না। এমতাবস্থায় স্বাধীনতার যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য বাঙালিদেরকে বিভিন্ন রণকৌশল গ্রহণ করতে হয়। এসব রণকৌশলেরই একটি পদক্ষেপ ছিল পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ফেলা।

     বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি আতাউল গনি ওসমানী, যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল প্রথমে ৪টি এবং পরের দিন ১১ই এপ্রিল সংশোধন করে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করেন। যার ফলে পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে। কীভাবে ভাগ করা হয়েছিল এই সেক্টরগুলো এবং কারা ছিলেন এসব সেক্টরের দায়িত্বে, এসব বিষয়েরই আদ্যোপান্ত আজ আপনাদেরকে জানাবো।

    [#মুক্তিযুদ্ধের_১১টি_সেক্টরের_মানচিত্র]

    ➤সেক্টর নং ১
    ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। এই সেক্টরের  সদর দপ্তর  ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  হরিনা। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন-
    #মেজর_জিয়াউর_রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_রফিকুল_ইসলাম। আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

    ➤সেক্টর নং ২
    ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের ত্রিপুরার মেঘালয় অঞ্চলে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_কে_এম_খালেদ_মোশাররফ ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত #মেজর_এটি_এম_হায়দার। এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।

    ➤সেক্টর নং ৩
    হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলাগাছিয়ায় এই সেক্টরের সদর দপ্তর অবস্থিত ছিল। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_কেএম_শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন- #মেজর_এএনএম_নুরুজ্জামান। আর এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৪
    সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_সিআর_দত্ত(চিত্তরঞ্জন) এবং #ক্যাপ্টেন_এ_রব। সদর দপ্তর ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ, পরবর্তীতে আসামের মাছিমপুর।

    ➤সেক্টর নং ৫
    বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ  নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । #মেজর_মীর_শওকত_আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের বাঁশতলায় এই সেক্টরের সদর দপ্তর করা হয়েছিল। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

    ➤সেক্টর নং ৬
    দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা  ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল বুড়িমারী, পাটগ্রাম। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন #ইউং_কমান্ডার_এমকে_বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৭
    রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল ও রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন যথা: #মেজর_নাজমুল_হক,(সুবেদার)
    #মেজর_এ_রব ও
    #মেজর_কাজী_নুরুজ্জামান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরঙ্গপুরে ছিল এই সেক্টরের সদর দপ্তর। এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৮
    কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_আবু_ওসমান_চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত #মেজর_এম_এ_মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৯
    পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_এম_এ_জলিল ও তারপর #মেজর_জয়নাল_আবেদীন এবং এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন- #মেজর_এম_এ_মঞ্জুর। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের বসিরহাটের টাকিতে। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ১০
    সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো  ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধিনে। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়, নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি কর্মকর্তা এই সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ➤সেক্টর নং ১১
    কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। এপ্রিল থেকে ৩ই নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_এম_আবু_তাহের ও তারপর #ফ্লাইট_লেফট্যান্যান্ট_এম_হামিদুল্লাহ। আর এই সেক্টরের সদর দপ্তর  হিসেবে ভারতের আসামের মহেন্দ্রগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।
    পরিশেষে বলবো, স্বাধীনতা এমনি  এমনিতে আসেনি। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের ফসল আজকের বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষের প্রাণের ফসল আজকের  বাংলাদেশ।

    ☞স্বাধীনতার মাস, বিজয়ের মাস, মুক্তির মাস, গৌরবের মাস, আত্মসম্মানের মাস, বাঙ্গালিদের অট্টহাসির মাস এসব নিয়েই আমাদের #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধা।
    সকল শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা।।

    মুক্তিযুদ্ধ  আর মুক্তিযোদ্ধা, যেন একটি মুদ্রার এপিঠ/ওপিঠ। এর একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটার আলোচনা করলে, স্বয়ংসম্পূর্ণ আলোচনা হবেনা বিধায় আমার আলোচনার বিষয়বস্তু #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধা ঠিক করা হয়েছে।তো শুরু করা যাকঃ

     যুদ্ধ মানেই কৌশল। যুদ্ধে যারা যত বেশি রণকৌশল দেখাতে পারবে, জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ততবেশি ঝুঁকবে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ১৯৭১ সালের ২৬ই মার্চ এদেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম এদেশের মানুষের কাছে ছিল না। এমতাবস্থায় স্বাধীনতার যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য বাঙালিদেরকে বিভিন্ন রণকৌশল গ্রহণ করতে হয়। এসব রণকৌশলেরই একটি পদক্ষেপ ছিল পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ফেলা।

     বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি আতাউল গনি ওসমানী, যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল প্রথমে ৪টি এবং পরের দিন ১১ই এপ্রিল সংশোধন করে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করেন। যার ফলে পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে। কীভাবে ভাগ করা হয়েছিল এই সেক্টরগুলো এবং কারা ছিলেন এসব সেক্টরের দায়িত্বে, এসব বিষয়েরই আদ্যোপান্ত আজ আপনাদেরকে জানাবো।

    [#মুক্তিযুদ্ধের_১১টি_সেক্টরের_মানচিত্র]

    ➤সেক্টর নং ১
    ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। এই সেক্টরের  সদর দপ্তর  ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  হরিনা। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন-
    #মেজর_জিয়াউর_রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_রফিকুল_ইসলাম। আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

    ➤সেক্টর নং ২
    ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের ত্রিপুরার মেঘালয় অঞ্চলে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_কে_এম_খালেদ_মোশাররফ ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত #মেজর_এটি_এম_হায়দার। এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।

    ➤সেক্টর নং ৩
    হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলাগাছিয়ায় এই সেক্টরের সদর দপ্তর অবস্থিত ছিল। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_কেএম_শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন- #মেজর_এএনএম_নুরুজ্জামান। আর এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৪
    সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_সিআর_দত্ত(চিত্তরঞ্জন) এবং #ক্যাপ্টেন_এ_রব। সদর দপ্তর ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ, পরবর্তীতে আসামের মাছিমপুর।

    ➤সেক্টর নং ৫
    বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ  নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । #মেজর_মীর_শওকত_আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের বাঁশতলায় এই সেক্টরের সদর দপ্তর করা হয়েছিল। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

    ➤সেক্টর নং ৬
    দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা  ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল বুড়িমারী, পাটগ্রাম। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন #ইউং_কমান্ডার_এমকে_বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৭
    রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল ও রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন যথা: #মেজর_নাজমুল_হক,(সুবেদার)
    #মেজর_এ_রব ও
    #মেজর_কাজী_নুরুজ্জামান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরঙ্গপুরে ছিল এই সেক্টরের সদর দপ্তর। এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৮
    কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_আবু_ওসমান_চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত #মেজর_এম_এ_মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৯
    পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_এম_এ_জলিল ও তারপর #মেজর_জয়নাল_আবেদীন এবং এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন- #মেজর_এম_এ_মঞ্জুর। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের বসিরহাটের টাকিতে। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ১০
    সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো  ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধিনে। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়, নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি কর্মকর্তা এই সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ➤সেক্টর নং ১১
    কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। এপ্রিল থেকে ৩ই নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_এম_আবু_তাহের ও তারপর #ফ্লাইট_লেফট্যান্যান্ট_এম_হামিদুল্লাহ। আর এই সেক্টরের সদর দপ্তর  হিসেবে ভারতের আসামের মহেন্দ্রগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।
    পরিশেষে বলবো, স্বাধীনতা এমনি  এমনিতে আসেনি। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের ফসল আজকের বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষের প্রাণের ফসল আজকের  বাংলাদেশ।

    ☞স্বাধীনতার মাস, বিজয়ের মাস, মুক্তির মাস, গৌরবের মাস, আত্মসম্মানের মাস, বাঙ্গালিদের অট্টহাসির মাস এসব নিয়েই আমাদের #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধা।
    সকল শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা।।

    #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধাঃ
    [#মুক্তিযুদ্ধের_১১টি_সেক্টর_সীমানা_ও_সেক্টর_কমান্ডার]

    মুক্তিযুদ্ধ  আর মুক্তিযোদ্ধা, যেন একটি মুদ্রার এপিঠ/ওপিঠ। এর একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটার আলোচনা করলে, স্বয়ংসম্পূর্ণ আলোচনা হবেনা বিধায় আমার আলোচনার বিষয়বস্তু #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধা ঠিক করা হয়েছে।তো শুরু করা যাকঃ

     যুদ্ধ মানেই কৌশল। যুদ্ধে যারা যত বেশি রণকৌশল দেখাতে পারবে, জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ততবেশি ঝুঁকবে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ১৯৭১ সালের ২৬ই মার্চ এদেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম এদেশের মানুষের কাছে ছিল না। এমতাবস্থায় স্বাধীনতার যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার জন্য বাঙালিদেরকে বিভিন্ন রণকৌশল গ্রহণ করতে হয়। এসব রণকৌশলেরই একটি পদক্ষেপ ছিল পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ফেলা।

     বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি আতাউল গনি ওসমানী, যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল প্রথমে ৪টি এবং পরের দিন ১১ই এপ্রিল সংশোধন করে ১১টি সেক্টর ও ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করেন। যার ফলে পরবর্তীতে যুদ্ধ পরিচালনা করা অনেক সহজ হয়ে ওঠে। কীভাবে ভাগ করা হয়েছিল এই সেক্টরগুলো এবং কারা ছিলেন এসব সেক্টরের দায়িত্বে, এসব বিষয়েরই আদ্যোপান্ত আজ আপনাদেরকে জানাবো।

    [#মুক্তিযুদ্ধের_১১টি_সেক্টরের_মানচিত্র]

    ➤সেক্টর নং ১
    ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও ফেনী পর্যন্ত ছিল ‘সেক্টর নং ১’। এই সেক্টরের  সদর দপ্তর  ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের  হরিনা। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন-
    #মেজর_জিয়াউর_রহমান এবং জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_রফিকুল_ইসলাম। আর এই সেক্টরকে পাঁচটি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল।

    ➤সেক্টর নং ২
    ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ২’। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের ত্রিপুরার মেঘালয় অঞ্চলে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_কে_এম_খালেদ_মোশাররফ ও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত #মেজর_এটি_এম_হায়দার। এই সেক্টরে ৬টি সাব-সেক্টর ছিল।

    ➤সেক্টর নং ৩
    হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৩’ এর আওতায়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলাগাছিয়ায় এই সেক্টরের সদর দপ্তর অবস্থিত ছিল। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_কেএম_শফিউল্লাহ। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন- #মেজর_এএনএম_নুরুজ্জামান। আর এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৪
    সিলেট জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ‘সেক্টর নং ৪’। এই সেক্টরেও ছিল ৬টি সাব-সেক্টর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_সিআর_দত্ত(চিত্তরঞ্জন) এবং #ক্যাপ্টেন_এ_রব। সদর দপ্তর ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ, পরবর্তীতে আসামের মাছিমপুর।

    ➤সেক্টর নং ৫
    বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ  নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । #মেজর_মীর_শওকত_আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের বাঁশতলায় এই সেক্টরের সদর দপ্তর করা হয়েছিল। এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।

    ➤সেক্টর নং ৬
    দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা  ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৬’। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল বুড়িমারী, পাটগ্রাম। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন #ইউং_কমান্ডার_এমকে_বাশার। এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৭
    রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল ও রংপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৭’ এর অন্তর্ভুক্ত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনজন যথা: #মেজর_নাজমুল_হক,(সুবেদার)
    #মেজর_এ_রব ও
    #মেজর_কাজী_নুরুজ্জামান। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তরঙ্গপুরে ছিল এই সেক্টরের সদর দপ্তর। এই সেক্টরে ছিল ৯টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৮
    কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ ছিল ‘সেক্টর নং ৮’ এর অন্তর্ভুক্ত। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_আবু_ওসমান_চৌধুরী ও আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত #মেজর_এম_এ_মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৭টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ৯
    পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ৯’। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_এম_এ_জলিল ও তারপর #মেজর_জয়নাল_আবেদীন এবং এছাড়াও অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন- #মেজর_এম_এ_মঞ্জুর। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল ভারতের বসিরহাটের টাকিতে। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।

    ➤সেক্টর নং ১০
    সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো  ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন ছিল ‘সেক্টর নং ১০’ এর অধিনে। এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। এই সেক্টরে কোনো সাব-সেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়, নৌবাহিনীর আটজন বাঙালি কর্মকর্তা এই সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ➤সেক্টর নং ১১
    কিশোরগঞ্জ বাদে ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয় ‘সেক্টর নং ১১’। এপ্রিল থেকে ৩ই নভেম্বর পর্যন্ত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- #মেজর_এম_আবু_তাহের ও তারপর #ফ্লাইট_লেফট্যান্যান্ট_এম_হামিদুল্লাহ। আর এই সেক্টরের সদর দপ্তর  হিসেবে ভারতের আসামের মহেন্দ্রগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই সেক্টরকে ৭টি সাব-সেক্টর ভাগ করা হয়েছিল।
    পরিশেষে বলবো, স্বাধীনতা এমনি  এমনিতে আসেনি। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের ফসল আজকের বাংলাদেশ। ৩০ লক্ষাধিক নারী-পুরুষের প্রাণের ফসল আজকের  বাংলাদেশ।

    ☞স্বাধীনতার মাস, বিজয়ের মাস, মুক্তির মাস, গৌরবের মাস, আত্মসম্মানের মাস, বাঙ্গালিদের অট্টহাসির মাস এসব নিয়েই আমাদের #মুক্তিযুদ্ধ_ও_মুক্তিযোদ্ধা।
    সকল শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা।।

  • নারী..!!

    নাবলাকথাঃ ৪৮

    নারী মানে চিন্তা ভাবনার রানী।আমাদের নারীদের আসলে অনেক কিছু চিন্তা ভাবনা করেই কাজ করতে হয়। কখন কোথায় যেতে হবে, কি করতে হবে কিভাবে চলতে হবে , সবকিছুই একটু বেশি ভাবতে হয়। বিশেষ করে যখন একটা মেয়ে সংসার জীবনে পা রাখে। চলার পথে ডান পা দিতে হবে না বাম পা দিতে হবে! সামনে পা রাখবো না দুটো পা এক জায়গায় রাখবো অনেক কিছু ভেবে পথ চলতে হয আবার অনেক সময় অনেক কিছু মনের মধ্যে চাপা রেখেও হাসি মুখে এগিয়ে যেতে হয়। তারপরও সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণের ভেতরে থাকবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই ।তবে সব পরিবেশে সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়াটাই হল নারীর স্বার্থকতা। একজন নারী কিভাবে ধৈর্য্য ধরতে হয় এই শিক্ষাটা রপ্ত করা খুব জরুরি। নারীকে কোন অবস্থাতেই ভেংগে পড়া উচিত নয় । নারীদের হতে হয় শক্ত মনের অধিকারী।একটাই বিশ্বাস রাখা উচিত আমার চেষ্টার ফলে যেকোনো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেকে সামলিয়ে নিতে আমি পারবো , আমাকে পারতেই হবে।তখন কোন সমস্যা বলে আর সমস্যা মনে হবে না ।।
    @bclr.bd

  • ভালবাসা আর ভালো রাখা এক নয়..!!

    জীবনে ভালোবাসার মানুষটার চেয়ে ভালোরাখতে পারার মানুষটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসার মানুষগুলো অসংখ্য হলেও ভালোরাখতে পারার মানুষ খুব বেশি নয়। প্রচন্ড ভালোবাসার পরও অনেকেই ভালো রাখতে পারে না। কিন্তু যে ভালোরাখতে পারে সে ভালোও বাসতে পারে। কারণ ভালোরাখার জন্য অবশ্যই ভালোবাসার প্রয়োজন হয়। ঠিক ভালোবাসার জন্যও ভালোরাখতে জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেএেই আজকাল মানুষ ভালোবাসতে পারলেও ভালোরাখতে জানে না। মানুষ যাকে ভালোবেসে একটু ভালো থাকতে চায়, দিনশেষে সেই মানুষটার কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়।

    আমরা কাউকে ভালোবাসতে পারি, প্রচন্ড পরিমাণে ভালোবাসতে পারি। কিন্তু আমরা সেই ভালোবাসাটাকে ভালোরাখতে জানি না। তীব্র ভালোবাসাটুকো’ও একসময় অনাদর আর অযত্নে পাল্টে যেতে শুরু করে। অথচ কত সযত্নে আগলে রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো মানুষটাকে। আমরা সব ভুলে যাই, মানুষটাকে অবহেলা করতে শুরি করি। অপরদিকে মানুষটা চাপা অার্তনাদে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যেতে থাকে। স্বপ্নের মৃত্যু হয়, প্রত্যাশার মৃত্যু হয়। মন থেকে মানুষটাও মরে যায়।

    শুধু ভালোবাসতে পারাটাই শেষ কথা নয়। ভালোবাসার মানুষটাকে আঁকড়ে ধরে সারাজীবন তার পাশে থেকে ভালো রাখার দায়িত্বটাও নিতে হয়। ভালোবাসার মানুষটাকে ভালো রাখতেও জানতে হয়। তখনই সত্যিকার অর্থে পূর্ণ্যতা পায় ভালোবাসা।

    লেখক- মেহেদী হাসান
    (রিপোষ্ট)

  • বাই-সাইকেল

    ‘বাইসাইকেল ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে পৃথিবীকে!’
    ===================≠============
    কথাটি একজন ব্যাংকারের। তিনি যখন বিষয়টি ডিটেইলসে বলেন, বড় বড় অর্থনীতিবিদরাও তাতে চিন্তার খোরাক পেয়েছেন। আরবান সাইক্লিং ইনস্টিটিউট ব্যাংকার বলেন, একজন সাইক্লিস্ট দেশের অর্থনীতির জন্যে দুর্যোগ স্বরূপ। তিনি গাড়ি কিনেন না। ফলে গাড়ি কেনার জন্য ধারও করতে হয় না তাকে। একজন সাইকেল ব্যবহারকারী ইন্সুরেন্স করেন না। জ্বালানী কিনেন না, তাকে এমনকি গাড়ি মেরামত বাবদও কোনো খরচ করতে হয় না।
    ব্যাংকার আরো বলেছেন, যিনি সাইকেল চালিয়ে অভ্যস্ত, তাকে পার্কিং করার জন্যে কোনো পয়সা দিতে হয় না। সাইকেলের কারণে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার ঘটে না, ফলে হাসপাতালও রোগী পায় না।

    সাইকেল চালানো মানুষ বহুলেইনের রাস্তাও ব্যবহার করে না। এমনকি লোকটি মোটাও হয় না সাইকেল চালানোর কারণে।

    ব্যাংকার বলছেন, অর্থনীতির জন্যে স্বাস্থ্যবান মানুষ মোটেও উপকারী বা প্রয়োজনীয় নয়। তাদের ডাক্তার দেখাতে হয় না। হাসপাতালে যেতে হয় না। ওষুধই কিনতে হয় না। তারা দেশের জিডিপিতে কোনো অবদান রাখে না।

    অন্যদিকে, ম্যাকডোনাল্ডসের একটা নতুন শপ হওয়া মানে কিছু লোকের চাকরি হওয়া। পাশাপাশি কমপক্ষে ৩০ জনের আয়ের সুযোগ করে দেয় নতুন দোকানটি। তারা হলেন ১০ জন হার্টের ডাক্তার, ১০ জন ডেন্টিস্ট এবং ১০ জন ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিদ।

    সুতরাং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন, সাইকেল কিনবেন নাকি ম্যাকডোনাল্ডসের দোকান? আর যারা পায়ে হাঁটে, তারা সবচেয়ে খারাপ। কারণ তারা একটি সাইকেলও কেনে না!

Design a site like this with WordPress.com
Get started