Blog

  • বোরহানি রেসিপি…০১

    বোরহানীর রেসিপি—

    বিরিয়ানি কিংবা পোলাও-মাংসের সঙ্গে বোরহানি না হলে কি হয়?

    বোরহানি যে কেবল খেতেই সুস্বাদু, তা কিন্তু নয়। সেইসঙ্গে এটি হজম সহজ করতেও দারুণভাবে কাজ করে। বোরহানি একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। তবে এই পানীয় বাইরে থেকে কিনে না খেয়ে ঘরেই তৈরি করে নেওয়া ভালো। যা স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উত্তম।

    ঊপকরন—

    চলুন জেনে নেওয়া যাক বোরহানি তৈরির রেসিপি-

    টক দই- এক কেজি
    পুদিনা পাতা বাটা- ১ টেবিল চামচ
    পানি- পরিমাণ মতো
    ভাজা জিরা গুঁড়া- ১ চা চামচ
    কাঁচা মরিচ বাটা- ১ চা চামচ
    গোল মরিচ গুঁড়া- সামান্য
    বিট লবণ- স্বাদমতো
    লবণ- স্বাদমতো
    চিনি- ১ টেবিল চামচ
    শুকনা মরিচ গুড়া- সামান্য।

    প্রনালীঃ

    🔺সব মসলাসহ দই ঘুটে নিন কিংবা ব্লেন্ডারে মিনিট খানেক ব্লেন্ড করে নিন।

    🔺এরপর পানি মিশিয়ে আরেকবার ব্লেন্ড করে নিন বা গুলে নিন। ছাকনির সাহায্যে ছেঁকে নিন।

    এবার বোরহানি পরিবেশনের জন্য তৈরি।

    পরিবেশনের সময় বরফের টুকরা দিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

    🌿রেসিপি টি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

    বোরহানি
  • বীফ বিরিয়ানি..! “

    বীফ বিরিয়ানী রেসিপি — ঈদ স্পেশাল

    উপকরণ
    ১কেজি গরুর মাংস
    ১ টে. চামচ আদা বাটা
    হাফ টে চামচ রসুন বাটা
    ১ চা চামচ ধনে গুড়া
    ২ চা চামচ জিরা গুঁড়া
    হাফ টে চামচ মরিচ গুড়া
    হাফ চা চামচ হলুদ গুড়া
    ১ চা চামচ সাধারণ গরম মশলা গুঁড়া
    হাফের কম চা চামচ জায়ফল, জয়ত্রী গুঁড়া যদি থাকে দিবেন
    হাফ কাপ বেরেস্তা
    হাফ কাপ টক দই
    হাফ কাপ তেল /ঘি
    ৪/৫ টি করে গোটা গরম মশলা
    ২ টি তেজপাতা
    ১০/১২ টি কাঁচামরিচ
    স্বাদমত লবন

    পোলাওয়ের জন্য:
    ৩ কাপ পোলাও এর চাল/বাসমতি চাল
    ১ কাপ দুধ
    ৫ কাপ পানি
    ৪/৫ টি আলু ছোট
    ২ টি এলাচ,দারুচিনি,লং ,তেজপাতা
    ১০ টি কাঁচা মরিচ
    ১ চা চামচ চিনি
    স্বাদমত লবন
    পরিমান মতো অরেঞ্জ ফুড কালার ইচ্ছে হলে দিতে পারেন

    প্রস্তুত প্রণালী—

    সব বাটা ও গুড়া মশলা সামান্য পানি দিয়ে গুলে রাখুন। চালগুলো ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।

    বাসমতি চাল হলে ১৫ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে, এতে রান্নার পর পোলাও লম্বালম্বা হবে ।

    হাড়িতে তেল গরম করে তাতে তেজপাতা ও গোটা গরম মশলা ফোঁড়ন দিয়ে গুলে রাখা মশলা দিয়ে কষান। তারপর মাংস দিয়ে কষিয়ে ৩০ মিনিটের জন্য ঢাকা দিন। কোন পানি দিবেন না।

    অল্প আঁচে রেখে দিন, মাংস থেকে পানি বের হয়ে আস্তে আস্তে মাংস নরম হবে। শুধু মাঝে মাঝে ঢাকনা খুলে নেড়ে দিবেন।

    এবার মাংস সিদ্ধ করার জন্য পরিমান মত পানি দিয়ে ঢেকে দিন।

    মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে বেরেস্তা ও কাঁচামরিচ দিয়ে নেড়ে আরও ১০ মিনিটের জন্য ঢেকে দিন। ঝোল শুকিয়ে মশলা গা মাখা হলে নামিয়ে ফেলুন।

    আলু ছিলে লবন-হলুদ মেখে সোনালি করে ভেজে তুলতে হবে। আলু ভাজা তেলে তেজপাতা,গোটা গরম মশলা

    ফোঁড়ন দিয়ে চালগুলো ঢেলে
    কিছুক্ষন ভুনে লবন, আলু, দুধ ও পানি দিতে হবে।

    এবারে চুলার আঁচ বাড়িয়ে এই পানিতে একটা বলোক তুলে নিতে হবে। পানি ফুটে উঠলে এই বাড়তি আঁচেই রান্না করুন মিনিট ৫ ধরে যতক্ষণ না পানি আর চাল সমান সমান হয়ে আসে।
    পানি কমে আসলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে আঁচ কমিয়ে দিন। তারপর এভাবেই ১৫মিনিট দমে রান্না করে নিন।

    ১৫ মিনিট পর ঢাকনা খুলে পোলাওগুলো আলতো হাতে উল্টেপাল্টে দিন।

    তারপর অর্ধেক পোলাও তুলে তার ওপর রান্না করা মাংস ও ভাজা আলু সমান করে বিছিয়ে দিয়ে তুলে রাখা বাকি পোলাও গুলো দিয়ে ছড়িয়ে দিন।

    ওপরে কিছুটা চিনি, লেবুর রস, ফুড কালার ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে আবারও ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য দমে(দমে বলতে কম আগুনে) রান্না করে নিন।

    হয়ে গেলে আলতো করে মিশিয়ে নিয়ে গরম গরম বিফ বিরিয়ানী পরিবেশন করুন।

  • “আযানের জবাব”

    প্রশ্নঃকিভাবে আজানেরজবাব দিব?

    💠উত্তরঃমুওয়াযযিন যখন
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার”
    বলে তখন আপনি ও আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলবেনঃ
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”।
    যখন মুওয়াযযিন বলে
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”
    এর জবাবে আপনিও বলবেনঃ
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
    “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”
    এর জবাবে বলবেনঃ
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
    “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ
    “হাইয়্যা আলাস সলা-হ”
    এর জবাবে বলবেনঃ
    ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
    “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻔَﻼَﺡِ
    “হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ”
    এর জবাবে আপনি বলবেনঃ
    ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
    “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”।
    অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার”
    এর জবাবে আপনি বলবেনঃ
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”
    এর জবাবে আপনি বলবেনঃ
    ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”

    আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউমের জবাব
    ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাবে ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বে। কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বিশুদ্ধ মতানুসারে এর জবাবেও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলাই উত্তম। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরাও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলবে।
    তাকরিরাতে রাফেয়ি : ১/৪৭ আহসানুল ফাতাওয়া : ১০/২০৬)
    অতঃপর দুরুদ শরীফ ও আযানের দোয়া পড়বেন।।
    যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে আযানের জবাব দেয় সে বেহেশতে যাবে।
    মুসলিম হাঃ ৩৮৫।
    আবু দাঊদ হাঃ ৫২৭।
    সহীহ আল জামি‘ হাঃ ৭১৪।
    মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ৬৫৮।

  • “আযানের জবাব”

    প্রশ্নঃকিভাবে আজানেরজবাব দিব?

    💠উত্তরঃমুওয়াযযিন যখন
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লাহু আকবার, আল্লা-হু আকবার”
    বলে তখন আপনি ও আন্তরিকতার সাথে তার জবাবে বলবেনঃ
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”।
    যখন মুওয়াযযিন বলে
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”
    এর জবাবে আপনিও বলবেনঃ
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “আশহাদু আল লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
    “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”
    এর জবাবে বলবেনঃ
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ
    “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রসূলুল্ল-হ”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ
    “হাইয়্যা আলাস সলা-হ”
    এর জবাবে বলবেনঃ
    ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
    “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﺣَﻰَّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻔَﻼَﺡِ
    “হাইয়্যা ‘আলাল ফালা-হ”
    এর জবাবে আপনি বলবেনঃ
    ﻻَ ﺣَﻮْﻝَ ﻭَﻻَ ﻗُﻮَّﺓَ ﺇِﻻَّ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ
    “লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ”।
    অতঃপর মুওয়াৰ্যযিন বলেঃ
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লা-হু আকবার, আল্লাহু আকবার”
    এর জবাবে আপনি বলবেনঃ
    ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻛْﺒَﺮُ
    “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার”।
    অতঃপর মুওয়াযযিন বলেঃ
    ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”
    এর জবাবে আপনি বলবেনঃ
    ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ
    “লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ”

    আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউমের জবাব
    ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাবে ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বে। কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বিশুদ্ধ মতানুসারে এর জবাবেও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলাই উত্তম। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরাও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলবে।
    তাকরিরাতে রাফেয়ি : ১/৪৭ আহসানুল ফাতাওয়া : ১০/২০৬)
    অতঃপর দুরুদ শরীফ ও আযানের দোয়া পড়বেন।।
    যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে আযানের জবাব দেয় সে বেহেশতে যাবে।
    মুসলিম হাঃ ৩৮৫।
    আবু দাঊদ হাঃ ৫২৭।
    সহীহ আল জামি‘ হাঃ ৭১৪।
    মিশকাতুল মাসাবীহ হাঃ ৬৫৮।

  • ওযু শিখার সঠিক পদ্ধতি

    afhn এর আজকের এপিসোডে আমরা ওযু সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।।
    আমরা যারা সঠিক ভাবে ওযু করতে জানি না, সম্পূর্ণ লেখা কয়েকবার পড়লে আশাকরি ওযুর সঠিক পদ্ধতি আপনার আয়ত্ত হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।।

    প্রথমে জানবো-
    ➤ওযু করার নিয়ম:-
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
    ১- নামাযী প্রথমে মনে মনে ওযুর নিয়ত করবে। কারণ নিয়ত ছাড়া কোন কর্মই শুদ্ধ হয় না। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ১নং)
    ২- ‘বিসমিল্লাহ্’ বলে ওযু শুরু করবে। কারণ শুরুতে তা না বললে ওযু হয় না। (আবূদাঊদ, সুনান ৯২নং)

    ৩- তিনবার দুইহাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেবে। হাতে ঘড়ি, চুড়ি, আংটি প্রভৃতি থাকলে তা হিলিয়ে তার তলে পানি পৌঁছাবে। আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুলের ফাঁকগুলো খেলাল করবে। (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ৪০৭নং) এরপর পানির পাত্রে হাত ডুবিয়ে পানি নিতে পারে। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ ৩৯৪নং) প্রকাশ যে, নখে নখ পালিশ বা কোন প্রকার পুরু পেন্ট থাকলে তা তুলে না ফেলা পর্যন্ত ওযু হবে না। পক্ষান্তরে মেহেদী বা আলতা লেগে থাকা অবস্থায় ওযু-গোসল হয়ে যাবে।

    ৪- তারপর ডানহাতে পানি নিয়ে ৩ বার কুল্লি করবে।
    ৫-অতঃপর পানি নিয়ে নাকের গোড়ায় লাগিয়ে টেনে নিয়ে বামহাত দ্বারা নাক ঝাড়বে। এরুপ ৩ বার করবে। তবে রোযা অবস্থায় থাকলে সাবধানে নাকে পানি টানবে, যাতে গলার নিচে পানি না চলে যায়। (তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান ৮৯, মিশকাত ৪০৫, ৪১০নং)
    অবশ্য এক লোট পানিতেই একই সাথে অর্ধেক দিয়ে কুল্লি করে বাকি অর্ধেক দিয়ে নাক ঝাড়লেও চলে। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩৯৪নং)

    ৬- অতঃপর মুখমন্ডল (এক কান থেকে অপর কানের মধ্যবর্তী এবং কপালের চুলের গোড়া থেকে দাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত অঙ্গ) ৩ বার পানি লাগিয়ে দুইহাত দ্বারা ধৌত করবে। (বুখারী ১৪০নং) এক লোট পানি দাড়ির মাঝে দিয়ে দাড়ির ফাঁকে ফাঁকে আঙ্গুল চালিয়ে তা খেলাল করবে। (আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ৪০৮নং) মহিলাদের কপালে টিপ (?) থাকলে ছাড়িয়ে ফেলে (কপাল) ধুতে হবে। নচেৎ ওযু হবে না।
    ৭- অতঃপর প্রথমে ডানহাত আঙ্গুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত এবং তদনুরুপ বামহাত ৩ বার (প্রত্যেক বারে পুরোহাতে পানি ফিরিয়ে রগড়ে) ধৌত করবে।

    ৮- অতঃপর একবার মাথা মাসাহ্ করবে; নতুন পানি দ্বারা দুই হাতকে ভিজিয়ে আঙ্গুল গুলিকে মুখোমুখি করে মাথার সামনের দিক (যেখান থেকে চুল গজানো শুরু হয়েছে সেখান) থেকে পিছন দিক (গর্দানের যেখানে চুল শেষ হয়েছে সেখান) পর্যন্ত স্পর্শ করে পুনরায় সামনের দিকে নিয়ে এসে শুরুর জায়গা পর্যন্ত পূর্ণ মাথা মাসাহ্ করবে। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩৯৪নং) মাথায় পাগড়ি থাকলে তার উপরেও মাসাহ্ করবে। (মুসলিম, মিশকাত ৩৯৯নং)

    ৯- অতঃপর আর নতুন পানি না নিয়ে ঐ হাতেই দুই কান মাসাহ্ করবে; শাহাদতের (তর্জনী) দুই আঙ্গুল দ্বারা দুই কানের ভিতর দিক এবং দুই বুড়ো আঙ্গুল দ্বারা দুই কানের পিঠ ও বাহির দিক মাসাহ্ করবে। (আবূদাঊদ, সুনান ৯৯, ১২৫নং)
    প্রকাশ যে, গর্দান মাসাহ্ করা বিধেয় নয়। বরং এটা বিদআত।

    ১০- অতঃপর প্রথমে ডান পা ও পরে বাম পা গাঁট পর্যন্ত ৩ বার করে রগড়ে ধোবে। কড়ে আঙ্গুল দ্বারা পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকগুলো খেলাল করে রগড়ে ধৌত করবে। (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ৪০৭নং)
    প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “পূর্ণাঙ্গরুপে ওযু কর, আঙ্গুলের ফাঁকগুলো খেলাল কর আর রোযা না থাকলে নাকে খুব ভালরুপে পানি চড়াও। (তারপর তা ঝেড়ে ফেলে উত্তমরুপে নাক সাফ কর।) (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, দারেমী, সুনান, মিশকাত ৪০৫-৪০৬ নং)

    ১১- এরপর হাতে পানি নিয়ে কাপড়ের উপর থেকে শরমগাহে ছিটিয়ে দেবে। বিশেষ করে পেশাব করার পর ওযু করলে এই আমল অধিকরুপে ব্যবহার্য। যেহেতু পেশাব করে তাহারতের পর দু-এক কাতরা পেশাব বের হওয়ার অসঅসা থাকে। সুতরাং পানি ছিটিয়ে দিলে ঐ অসঅসা দূর হয়ে যায়। (আবূদাঊদ, সুনান ১৫২-১৫৪, ইবনে মাজাহ্, সুনান ৩৭৪-৩৭৬নং) এই আমল খোদ জিবরাঈল (আঃ) মহানবী (সাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ্, সুনান, দারেমী, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, বায়হাকী, আহমাদ, মুসনাদ, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৮৪১নং)

    ♦ওযুর শেষে দুআ
    প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউই পরিপূর্ণরুপে ওযু করার পর (নিম্নের যিক্র) পড়ে তার জন্যই জান্নাতের আটটি দ্বার উন্মুক্ত করা হয়; যে দ্বার দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করতে পারে।
    ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَّ ﺇِﻟﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠﻪُ ﻭَﺣْﺪَﻩُ ﻻَ ﺷَﺮِﻳْﻚَ ﻟَﻪُ ﻭَﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﻋَﺒْﺪُﻩُ ﻭَﺭَﺳُﻮْﻟُﻪُ ।
    “আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহ্দাহু লা শারীকা লাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু অরাসূলুহ্।”
    অর্থাৎ, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক তাঁর কোন অংশী নেই। আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল। (মুসলিম ২৩৪নং, আবু দাঊদ, ইবনে মাজাহ্)

    তিরমিযীর বর্ণনায় এই দুআর শেষে নিম্নের অংশটিও যুক্ত আছে:-
    ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﺟْﻌَﻠْﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺘَّﻮَّﺍﺑِﻴْﻦَ، ﻭَﺍﺟْﻌَﻠْﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤُﺘَﻄَﻬِّﺮِﻱْﻥَ ।
    উচ্চারণ:- আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তাওয়াবীনা, অজ্আলনী মিনাল মুতাত্বাহ্হিরীন।
    অর্থ:- হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের দলভুক্ত কর। (মিশকাত ২৮৯নং)

    ওযুর শেষে নিম্নের দুআ পাঠ করলে তা শুভ্র নিবন্ধে লিখে সীল করা হয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা নষ্ট করা হয় না।
    ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﻭَﺑِﺤَﻤْﺪِﻙَ، ﺃَﺷْﻬَﺪُ ﺃَﻥْ ﻻَّ ﺇِﻟﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺃَﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻙَ ﻭَﺃَﺗُﻮْﺏُ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ।
    “সুবহানাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আন্ত , আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইক।”
    অর্থাৎ, তোমার সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছি হে আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমিই একমাত্র সত্য উপাস্য। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন (তওবা) করছি। (ত্বাহাবী, সহিহ তারগিব ২১৮নং, ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ১/১৩৫, ৩/৯৪)
    এ ছাড়া প্রত্যেক অঙ্গ ধোয়ার সময় নির্দিষ্ট দুআ অথবা শেষে ‘ইন্না আনযালনা’ পাঠ বিদআত।

    📌ওযুর আনুষঙ্গিক মাসায়েলঃ
    ➤ওযুর অঙ্গগুলোকে কমপক্ষে ১ বার করে ধোয়া জরুরী। ২ বার করে ধুলেও চলে। তবে ৩ বার করে ধোয়াই উত্তম। এরই উপরে আল্লাহর রসূল (সাঃ) তথা সাহাবায়ে কেরামের আমল বেশী। কিন্তু তিনবারের অধিক ধোয়া অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন করা। (আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ৪১৭-৪১৮ নং)

    ➤ওযুর কোন অঙ্গ ২ বার এবং কোন অঙ্গ ৩ বার ধোয়া দূষণীয় নয়। (সহীহ, আবূদাঊদ, সুনান ১০৯, সহীহ, তিরমিযী, সুনান ৪৩নং)

    ➤জোড়া অঙ্গগুলির ডান অঙ্গকে আগে ধোয়া রসূল (সাঃ) এর নির্দেশ। (আহমাদ, মুসনাদ, আবূ দাঊদ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ৪০১নং) তিনি ওযু, গোসল, মাথা আঁচড়ানো, জুতো পরা প্রভৃতি সকল কাজের সময় ডান থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪০০নং)

    ➤ওযুর অঙ্গগুলো -বিশেষ করে হাত ও পা- রগড়ে ধোয়া উত্তম। রসূল (সাঃ) এর এরুপই আমল ছিল। (নাসাঈ, সুনান ৭২, মিশকাত ৪০৭নং)

    ➤অঙ্গসমূহ এমনভাবে ধুতে হবে যাতে কোন সামান্য জায়গাও শুকনো থেকে না যায়। ওযুর অঙ্গে কোন প্রকার পানিরোধক বস্তু (যেমন পেন্ট, চুন, কুমকুম, অলঙ্কার, ঘড়ি, টিপ ইত্যাদি) থাকলে তা অবশ্যই দূর করে নিতে হবে। যেহেতু আল্লাহর নবী (সাঃ) একদা কতক লোকের শুষ্ক গোড়ালি দেখে বলেছিলেন, “গোড়ালিগুলোর জন্য দোযখে ধ্বংস ও সর্বনাশ রয়েছে! তোমরা ভালরুপে (সকল অঙ্গকে সম্পূর্ণরুপে) ধুয়ে ওযু কর।” (মুসলিম, মিশকাত ৩৯৮নং)

    ⭕ এক ব্যক্তি ওযু করার পর মহানবী (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে দেখলেন, তার দুই পায়ে নখ পরিমাণ জায়গা শুষ্ক রয়েছে। তিনি তাকে বললেন, “তুমি ফিরে গিয়ে ভালরুপে ওযু করে এস।” (আবূদাঊদ, সুনান ১৫৮নং)
    এক ব্যক্তিকে তিনি দেখলেন নামায পড়ছে, আর তার এক পায়ের পিঠে এক দিরহাম বরাবর স্থান শুষ্ক রয়েছে, যাতে সে পানিই পৌঁছায়নি। তিনি তাকে পুনরায় ওযু করে নতুনভাবে নামায পড়তে আদেশ দিলেন। (আবূদাঊদ, সুনান ১৬১ নং)

    ➤ওযু করার সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে একটানা অঙ্গগুলোকে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ধুতে হবে। মাঝে বিরতি দেওয়া বৈধ নয়। সুতরাং কেউ মাথা বা কান মাসাহ্ না করে ভুলে পা ধুয়ে ফেললে এবং সত্বর মনে পড়লে, সে মাসাহ্ করে পুনরায় পা ধোবে। বহু পরে মনে পড়লে পুনরায় নতুন করে ওযু করবে।
    ➤কেউ যদি ওযু শুরু করার পর কাপড়ে নাপাকী দেখে এবং তা সাফ করতে করতে পূর্বেকার ধৌত অঙ্গ শুকিয়ে যায়, তাহলে তাকে পুনঃ ওযু করতে হবে। পক্ষান্তরে যদি ওযু সম্পর্কিত কোন বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্নতা কেটে যায়, তবে তাতে কোন ক্ষতি হয় না। যেমন ওযু করতে করতে হাতে বা ওযুর কোন অঙ্গে পেন্ট বা নখণ্ডপালিশ বা চুন ছাড়াতে অথবা পানি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় কুঁয়ো বা কল থেকে পানি তুলতে কিংবা ট্যাঙ্কের পাইপ খুলতে প্রভৃতি কারণে ওযুতে সামান্য বিরতি এসে পূর্বেকার ধোয়া অঙ্গ শুকিয়ে যায়, তাহলে পুনরায় নতুনভাবে শুরু করে ওযু করতে হবে না। যে অঙ্গ ধোয়া হয়েছিল তার পর থেকেই বাকী অঙ্গসমূহ ধুয়ে ওযু শেষ করা যাবে। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ১/১৫৭)

    ➤ওযু করার সময় বাঁধানো দাঁত খোলা বা খেলাল করে দাঁতের ফাঁক থেকে লেগে থাকা খাদ্যাংশ বের করা জরুরী নয়। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/২৮৩, ফম: ১/২১০)

    ➤একই পাত্র হতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে এক সাথে অথবা স্ত্রী আগে ও স্বামী পরে অথবা তার বিপরীতভাবে ওযু-গোসল করায় কোন ক্ষতি বা বাধা নেই। আল্লাহর রসূল (সাঃ) তথা সাহাবাগণ এরুপ আমল করেছেন। (বুখারী, ফতহুল বারী ১/৩৫৭-৩৫৮, মুসলিম, মিশকাত ৪৪০নং)

    ➤ঠান্ডার কারণে গরম পানিতে ওযু-গোসল করায় কোন বাধা নেই। হযরত উমার (রাঃ) এরুপ করতেন। (বুখারী, ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ১/৩৫৭-৩৫৮)

    ➤ওযু-গোসলের জন্য পরিমিত পানি ব্যবহার করা কর্তব্য। অধিক পানি খরচ করা অতিরঞ্জনের পর্যায়ভুক্ত; আর তা বৈধ নয়। (আহমাদ, মুসনাদ আবূদাঊদ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ৪১৮নং) মহানবী (সাঃ) ১ মুদ্দ্ (কম-বেশী ৬২৫ গ্রাম) পানিতে ওযু এবং ১ সা’ থেকে ৫ মুদ্দ্ (কম-বেশী ২৫০০ থেকে ৩১২৫ গ্রাম) পানিতে গোসল করতেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪৩৯নং)

    ➤সুতরাং যাঁরা ট্যাঙ্কের পানিতে ওযু-গোসল করেন, তাঁদেরকে সতর্ক হওয়া উচিৎ।
    ওযুর ফরয অঙ্গ সম্পূর্ণ কাটা থাকলে তার বাকী অঙ্গ ধুতে বা মাসাহ্ করতে হয় না। যেমন একটি হাত গোটা বা কনুই পর্যন্ত অথবা একটি পা গোটা বা গাঁট পর্যন্ত কাটা থাকলে বাকী একটি হাত বা পা-ই ওযুর জন্য ধুতে হবে। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্, সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩৯০)

    ➤ওযুর শেষে পাত্রের অবশিষ্ট পানি থেকে এক আঁজলা দাঁড়িয়ে পান করার কথা হাদীসে রয়েছে। (বুখারী ৫৬১৬, তিরমিযী, সুনান ৪৪-৪৫, নাসাঈ, সুনান ৯৩নং)

    ➤ওযুর শেষে ওযুর পানি অঙ্গ থেকে কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা দূষণীয় নয়। মহানবী (সাঃ) ওযুর পর নিজের জুব্বায় নিজের চেহারা মুছেছেন। (ইবনে মাজাহ্, সুনান ৩৭৯নং) ওযূর পর পানি মুছার জন্য তাঁর একটি বস্ত্র খন্ড ছিল। (তিরমিযী, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, জামে ৪৮৩০নং)

    ➤ওযুর পর দুই রাকআত নামাযের বড় ফযীলত রয়েছে। আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “যে কোন ব্যক্তি যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে সবিনয়ে একাগ্রতার সাথে (কায়মনোবাক্যে) দুই রাকআত নামায পড়ে তক্ষণই তার জন্য জান্নাত অবধার্য হয়ে যায়।” (মুসলিম ২৩৪নং, আবু দাঊদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ্)

    ➤তিনি আরো বলেন, “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে, কোন ভুল না করে ( একাগ্রচিত্তে) দুই রাকআত নামায পড়ে সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সমূদয় গুনাহ মাফ হয়ে যায়।” (আবু দাঊদ, সহীহ তারগীব ২২১নং)

    ➤ওযুর পরে নামায পড়ার ফলেই নবী (সাঃ) বেহেশ্তে তাঁর আগে আগে হযরত বিলালের জুতোর শব্দ শুনেছিলেন। (বুখারী, মুসলিম, সহিহ তারগিব ২১৯নং)

    ➤প্রিয় নবী (সাঃ) প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু করতেন। তবে সাহাবাগণ না ভাঙ্গা পর্যন্ত একই ওযুতে কয়েক ওয়াক্তের নামায পড়তেন। (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী ২১৪ নং, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, দারেমী, সুনান, মিশকাত ৪২৫নং)

    ➤অবশ্য মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সাঃ) এক ওযুতেই পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়েছিলেন। (মুসলিম, সহীহ ২৭৭, আবূদাঊদ, সুনান ১৭২, ইবনে মাজাহ্, সুনান ৫১০নং)

    ➤সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা এবং ওযু ভাঙ্গলে সাথে সাথে ওযু করে নেওয়ার ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমরা (প্রত্যেক বিষয়ে) কর্তব্যনিষ্ঠ রহ্; আর তাতে কখনই সক্ষম হবে না। জেনে রেখো, তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল নামায। আর মুমিন ব্যতীত কেউই ওযুর হিফাযত করবে না।” (ইবনে মাজাহ্,হাকেম, সহীহ তারগীব ১৯০নং)

    ➤হযরত আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ্ তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করে বলেন, একদা প্রভাতকালে আল্লাহর রসূল (সাঃ) হযরত বিলালকে ডেকে বললেন, “হে বিলাল! কি এমন কাজ করে তুমি জান্নাতে আমার আগে চলে গেলে? আমি গত রাত্রে (স্বপ্নে) জান্নাতে প্রবেশ করলে তোমার (জুতার) শব্দ আমার সামনে থেকে শুনতে পেলাম!” বিলাল বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি যখনই আযান দিয়েছি তখনই দুই রাকআত নামায পড়েছি। আর যখনই আমি অপবিত্র হয়েছি তখনই আমি সাথে সাথে ওযু করে নিয়েছি।’ এ শুনে আল্লাহর রসূল (সাঃ) বললেন, “এই কাজের জন্যই। (জান্নাতে আমার আগে আগে তোমার শব্দ শুনলাম।)” (ইবনে খুযাইমাহ্, সহীহ তারগীব ১৯৪নং)

    রোগীর পবিত্রতা ও ওযু-গোসল
    রোগী হলেও গোসল ওয়াজেব হলে গোসল এবং ওযুর দরকার হলে ওযু করা জরুরী।

    ঠান্ডা পানি ব্যবহার করায় ক্ষতির আশঙ্কা হলে রোগী গরম পানি ব্যবহার করবে। পানি ব্যবহারে একেবারেই অসমর্থ হলে বা রোগ-বৃদ্ধি অথবা আরোগ্য লাভে বিলম্বের আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করবে।

    রোগী নিজে ওযু বা তায়াম্মুম করতে না পারলে অন্য কেউ করিয়ে দেবে।

    ওযুর কোন অঙ্গে ক্ষত থাকলেও তা ধুতে হবে। অবশ্য পানি লাগলে ঘা বেড়ে যাবে এমন আশঙ্কা থাকলে হাত ভিজিয়ে তার উপর বুলিয়ে মাসাহ্ করবে। মাসাহ্ করাও ক্ষতিকারক হলে ঐ অঙ্গের পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নেবে।

    ক্ষতস্থানে পটি বাঁধা বা প্লাস্টার করা থাকলে অন্যান্য অঙ্গ ধুয়ে পটির উপর মাসাহ্ করবে। মাসাহ্ করলে আর তায়াম্মুমের প্রয়োজন নেই।

    রোগীর জন্যও দেহ্, লেবাস ও নামায পড়ার স্থানের সর্বপ্রকার পবিত্রতা জরুরী। কিন্তু অপবিত্রতা দূর করতে না পারলে যে অবস্থায় থাকবে সে অবস্থাতেই তার নামায শুদ্ধ হয়ে যাবে।

    কোন নামাযকে তার যথা সময় থেকে পিছিয়ে দেওয়া (যেমন ফজরকে যোহরের সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা) রোগীর জন্যও বৈধ নয়। যথা সম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে অথবা (অক্ষম হলে) না করেই নামাযের যথা সময় অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই নামায অবশ্যই পড়ে নেবে। নচেৎ গুনাহগার হবে। (রাসাইল ফিত্ তাহারাতি অস্ সালাত, ইবনে উসাইমীন ৩৯-৪১পৃ:)

    কেবলমাত্র মাথা ধুলে অসুখ হওয়ার বা বাড়ার ভয় হলে বাকী দেহ্ ধুয়ে মাথায় মাসাহ্ করবে। অবশ্য এর সাথে তায়াম্মুমও করতে হবে। (ইবনে বায, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২১৪)
    সর্বদা প্রস্রাব ঝরলে অথবা বাতকর্ম হলে অথবা মহিলাদের সাদা স্রাব ঝরলে প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু জরুরী। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/২৮৭-২৯১ দ্র:)

    নামাযের সময় হলে যদি কাপড়ে নাপাকী লেগে থাকে, তবে নামাযী তা বদলে লজ্জাস্থান ধুয়ে ওযু করবে। নামাযের সময় যাতে নাপাকী অন্যান্য অঙ্গে বা কাপড়ে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য শরমগাহে বিশেষ কাপড়, ল্যাঙ্গট বা পটি ব্যবহার করবে।
    গোসল করলে রোগ-বৃদ্ধি হবে এবং ওযু করলে ক্ষতি হবে না বুঝলে তায়াম্মুম করে ওযু করবে।

    ✪ ওযু নষ্ট হওয়ার কারণসমূহ:
    ১। পেশাব ও পায়খানা দ্বার হতে কিছু (পেশাব, পায়খানা, বীর্য, মযী, হাওয়া, রক্ত, কৃমি, পাথর প্রভৃতি) বের হলে ওযু ভেঙ্গে যায়। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ১/২২০)
    তদনুরুপ দেহের অন্যান্য অঙ্গ থেকে (যেমন অপারেশন করে পেট থেকে পাইপের মাধ্যমে) অপবিত্র (বিশেষ করে পেশাব-পায়খানা) বের হলেও ওযু নষ্ট হয়ে যাবে। (ঐ১/২২১)

    ২। যাতে গোসল ওয়াজেব হয়, তাতে ওযুও নষ্ট হয়।

    ৩। কোন প্রকারে বেহুশ বা জ্ঞানশূন্য হলে ওযু নষ্ট হয়।

    ৪। গাঢ়ভাবে ঘুমিয়ে পড়লে ওযু ভাঙ্গে। আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “ চোখ হল মলদ্বারের বাঁধন। সুতরাং যে ঘুমিয়ে যায়, সে যেন ওযু করে।” (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, মিশকাত ৩১৬, জামে ৪১৪৯নং)
    অবশ্য হাল্কা ঘুম বা ঢুল (তন্দ্রা) এলে ওযু ভাঙ্গে না। সাহাবায়ে কেরাম নবী (সাঃ) এর যুগে এশার নামাযের জন্য তাঁর অপেক্ষা করতে করতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে ঢুলতেন। অতঃপর তিনি এলে তাঁরা নামায পড়তেন, কিন্তু নতুন করে আর ওযু করতেন না। (মুসলিম, সহীহ ৩৭৬নং, আবূদাঊদ, সুনান ১৯৯-২০১নং)

    ৫। পেশাব অথবা পায়খানা-দ্বার সরাসরি স্পর্শ করলে ওযু নষ্ট হয়। (কাপড়ের উপর থেকে হাত দিলে নষ্ট হয় না।) (জামে ৬৫৫৪, ৬৫৫৫নং) মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিনা পর্দায় ও অন্তরালে নিজের শরমগাহ্ স্পর্শ করে, তার উপর ওযু ওয়াজেব হয়ে যায়।” (জামে ৩৬২, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ১২৩৫ নং)
    হাতের কব্জির উপরের অংশ দ্বারা স্পর্শ হলে ওযু ভাঙ্গবে না। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ১/২২৯)

    ৬। উটের গোশত (কলিজা, ভূঁড়ি) খেলে ওযু ভেঙ্গে যায়। এক ব্যক্তি মহানবী (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করল, ‘উটের গোশত খেলে ওযু করব কি?’ তিনি বললেন, “হ্যাঁ, উটের গোশত খেলে ওযু করো।” (মুসলিম, সহীহ ৩৬০নং)
    তিনি বলেন, “উটের গোশত খেলে তোমরা ওযু করো।” (আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, জামে ৩০০৬ নং)

    ✪ যাতে ওযু নষ্ট হয় না
    ১। নারীদেহ্ স্পর্শ করলে ওযু ভাঙ্গে না। কারণ, মহানবী (সাঃ) রাত্রে নামায পড়তেন, আর মা আয়েশা (রাঃ) তাঁর সম্মুখে পা মেলে শুয়ে থাকতেন। যখন তিনি সিজদায় যেতেন, তখন তাঁর পায়ে স্পর্শ করে পা সরিয়ে নিতে বলতেন। এতে তিনি নিজের পা দু’টিকে গুটিয়ে নিতেন। (বুখারী ৫১৩, মুসলিম, সহীহ ৫১২নং)
    তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)কে চুম্বন দিতেন। তারপর ওযু না করে নামায পড়তে বেরিয়ে যেতেন। (আবূদাঊদ, সুনান ১৭৮-১৭৯ নং, আহমাদ, মুসনাদ ৬/২১০, দি: ৮৬, নাসাঈ, সুনান ১৭০, ইবনে মাজাহ্, সুনান ৫০২নং, দারাক্বুত্বনী, সুনান ১/১৩৮, বায়হাকী ১/১২৫)
    অবশ্য স্পর্শ বা চুম্বনে মযী বের হলে তা ধুয়ে ওযু জরুরী। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন১/২৮৫-২৮৬)

    ২। হো-হো করে হাসলে; এ প্রসঙ্গের হাদীসটি দলীলের যোগ্য নয়। তাই হাসলে ওযু ভাঙ্গে না। (ফিকহুস সুন্নাহ্ উর্দু ১/৫০-৫১, বুখারী, ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ১/৩৩৬)

    ৩। বমি করলে; একদা নবী (সাঃ) বমি করলে রোযা ভেঙ্গে ফেললেন। তারপর তিনি ওযু করলেন। (আহমাদ, মুসনাদ ৬/৪৪৯, তিরমিযী, সুনান) এই হাদীসে তাঁর কর্মের পরস্পর অবস্থা বর্ণিত হয়েছে। বমি করলেন বলে ওযু ভেঙ্গে গিয়েছিল, তাই তিনি ওযু করেছিলেন -তা প্রমাণ হয় না। (ইরওয়াউল গালীল, আলবানী ১/১৪৮, আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ১/২২৪-২২৫)

    ৪। গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলালে; গাঁটের নিচে কাপড় ঝুলানো কাবীরা গুনাহ। কিয়ামতে আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে তাকিয়েও দেখবেন না, যে ব্যক্তি তার পরনের কাপড় পায়ের গাঁটের নিচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরে। (বুখারী ৫৭৮৪, মুসলিম, সহীহ ২০৮৫নং) কিন্তু এর ফলে ওযু ভাঙ্গে না। এক ব্যক্তি ঐরুপ কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়লে মহানবী (সাঃ) তাকে পুনরায় ওযু করে নামায পড়তে হুকুম দিয়েছিলেন বলে যে হাদীস আবূ দাঊদে বর্ণিত হয়েছে, তা যয়ীফ এবং দলীলের যোগ্য নয়। (যয়ীফ আবূদাঊদ, সুনান ১২৪, ৮৮৪নং)

    ৫। নাক থেকে রক্ত পড়লে; এতে ওযু নষ্ট হয় বলে হাদীস ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে, তা যয়ীফ। (যয়ীফ ইবনে মাজাহ্, সুনান ২৫২, যয়ীফ জামে ৫৪২৬নং)

    ৬। দেহের কোন অঙ্গ কেটে রক্ত পড়লে, দাঁত থেকে রক্ত ঝরলে, তীরবিদ্ধ হয়ে রক্ত পড়লে; যা-তুর রিকা’ যুদ্ধে নবী (সাঃ) উপস্থিত ছিলেন। সেখানে এক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হলেও সে রুকু সিজদা করে নামায সম্পন্ন করেছিল। হাসান বাসরী (রহঃ) বলেন, মুসলিমরা এ যাবৎ তাদের রক্তাক্ত ক্ষত নিয়েই নামায পড়ে আসছে। হযরত ইবনে উমার (রাঃ) একটি ফুসকুরি গেলে দিলে তা থেকে রক্ত বের হল। কিন্তু তিনি ওযু করলেন না। ইবনে আবী আওফা রক্তমাখা থুথু ফেললেন। অতঃপর তিনি তাঁর নামায সম্পন্ন করলেন। ইবনে উমার ওহাসান বলেন, কেউ শৃঙ্গ লাগিয়ে বদ-রক্ত বের করলে কেবল ঐ জায়গাটা ধুয়ে নেবে। এ ছাড়া ওযু-গোসল নেই। (বুখারী ফাতহুল বারী, ইবনে হাজার ১/৩৩৬)
    পূর্বোক্ত তীরবিদ্ধ লোকটি ছিল একজন আনসারী। তার সঙ্গী এক মুহাজেরী তার রক্তাক্ত অবস্থা দেখে বলল, ‘সুবহানাল্লাহ্! (তিন তিনটে তীর মেরেছে?!) প্রথম তীর মারলে তুমি আমাকে জাগিয়ে দাওনি কেন?’ আনসারী বলল, ‘আমি এমন একটি সূরা পাঠ করছিলাম, যা সম্পূর্ণ না করে ছেড়ে দিতে পছন্দ করিনি!’ (আবূদাঊদ, সুনান ১৯৮নং)

    ৭। মুর্দা গোসল দিলে; মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি মুর্দা কে গোসল দেবে, সে যেন নিজে গোসল করে নেয়। আর যে ব্যক্তি জানাযা বহন করবে, সে যেন ওযু করে নেয়।” (আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ২/২৮০ প্রভৃতি) কিন্তু এই নির্দেশটি মুস্তাহাব। অর্থাৎ না করলেও চলে। তবে করা উত্তম। কারণ, গোসলদাতার দেহে নাপাকী লেগে যাওয়ার সন্দেহ্ থাকে তাই। তাই তো অন্য এক বর্ণনায় আছে; তিনি বলেন, “মুর্দাকে গোসল দিলে তোমাদের জন্য গোসল করা জরুরী নয়। কারণ তোমাদের মুর্দা তো আর নাপাক নয়। অতএব তোমাদের হাত ধুয়ে নেওয়াই যথেষ্ট।” (হাকেম, মুস্তাদরাক ১/৩৮৬, বায়হাকী ৩/৩৯৮)

    হযরত উমার (রাঃ) বলেন, ‘আমরা মাইয়্যেতকে গোসল দিতাম। তাতে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ গোসল করে নিত। আবার অনেকে করত না।’ (দারাক্বুত্বনী, সুনান ১৯১নং)
    অবশ্য মাইয়্যেতকে গোসল দেওয়ার সময় তার শরমগাহে হাত লেগে থাকলে ওযু অবশ্যই নষ্ট হবে। আর জানাযা বহন করাতে ওযু নষ্ট হয় না। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ্ ২৬/৯৬)

    ৮। মৃতদেহের পোষ্টমর্টেম করাতেও ওযু ভাঙ্গে না। (ঐ ২৭/৪০)

    ৯। ওযু করে মায়েরা যদি তাদের শিশুর পেশাব বা পায়খানা সাফ করে, তবে তা হাতে লাগলেও ওযু ভাঙ্গে না। অবশ্য পায়খানাদ্বার বা পেশাবদ্বার ধোয়ার সময় কোন দ্বারে হাত লাগলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়। (ঐ ২২/৬২)

    ১০। কোনও নাপাক বস্তু (মানুষ বা পশুর পেশাব, পায়খানা, রক্ত প্রভৃতি)তে হাত বা পা দিলে ওযু ভাঙ্গে না। (ঐ ৩৫/৯৬)

    ১১। ওযু করার পর ধূমপান করলে ওযু নষ্ট হয় না। তবে ধূমপান করা অবশ্যই হারাম। (ঐ ১৮/৯২-৯৩)

    ১২। কোলন, কোহল বা স্পিরিট-মিশ্রিত আতর বা সেন্টব্যবহার করলে ওযুর কোন ক্ষতি হয় না। তবে তা ব্যবহার বৈধ নয়। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২০৩)

    ১৩। চুল, নখ ইত্যাদি সাফ করলে ওযু ভাঙ্গে না। (ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/২৯২, বুখারী ১/৩৩৬) তদনুরুপ অশ্লীল কথা বললে, হাঁটুর উপর কাপড় উঠে এলে, মহিলার মাথা খোলা গেলে, কাউকে বা নিজেকে উলঙ্গ দেখলে ওযু নষ্ট হয় না।
    দুধ পান করলে নামাযের পূর্বে কুল্লি করা মুস্তাহাব। (বুখারী ২১১, মুসলিম, সহীহ ৩৫৮নং)

    ✪ যে যে কাজের জন্য ওযু জরুরী বা মুস্তাহাব
    নামায পড়ার জন্য, কুরআন মাজীদ (মুসহাফ) স্পর্শ করা বা হাতে নেওয়ার জন্য এবং কা’বা শরীফের তওয়াফ করার জন্য ওযু করা জরুরী।
    এ ছাড়া কুরআন তেলাওয়াত, আল্লাহর যিক্র, তেলাওয়াত ও শুক্রের সিজদা, আযান, সাফা-মারওয়ার সাঈ, বিভিন্ন খোতবা পাঠ ইত্যাদির সময় ওযু করা মুস্তাহাব।

    গ্রন্থঃ স্বালাতে মুবাশ্শির
    লেখক/সংকলকঃ আবদুল হামীদ ফাইযী

  • স্ত্রীকে ভালোবাসুন..!

    স্ত্রীকে ভালো না লাগার হাজারটা কারণ থাকতে পারে,কারণ সে মানবীয় ত্রুটির উর্ধ্বে না। তবে তাকে ভালোবাসার জন্য একটি কারণই যথেষ্ট….“সে আপনার সন্তানের মা”।

    🍂আমরা পুরুষ জাতি কৃষকের মতো। বীজ বপনের মৌসুমে বীজ ছড়িয়ে অপেক্ষা করি সুন্দর একটি অঙ্কুরোদগমের! ভালো ফলনের আশায় হয়তো জমির একটু যত্নও নেই! কিন্তু নরম মাটির বুক আঁকড়ে ধরে তার প্রানরস শুষে কিভাবে একটি বীজ গাছে রুপান্তরিত হয় তা আমাদের নিকট অজানা!

    একটি শরীরের মাঝে আরেকটি জীবন্ত শরীর টানা ৯ মাস ধরে বেড়ে ওঠার পিছনে লুকিয়ে থাকে, না জানা অনেক ভেজা গল্প! অশ্রুসজল নির্ঘুম রাত, তীব্র ক্ষুধা সত্বেও খেতে না পারার নির্মম কষ্ট, হাজারো শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে সে অপেক্ষার প্রহর গোনে ‘পিতৃত্ব’ উপহার দিয়ে ভালোবাসার মানুষটির মুখের হাসি দেখতে!

    সন্তান জন্মদানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি মূহুর্তে অসহ্য সীমাহীন যন্ত্রণায় বুক বিদীর্ণ করা এক একটি মর্মন্তুদ চিৎকারের গভীরে কয় সাগর ব্যাথার অশ্রু ঝরে পড়ে তা কেবল আসমান-জমীনের মালিকই বোঝেন! তাইতো আসমান থেকেই তিনি এই কষ্টের স্বীকৃতি দিয়ে বলেনঃ
    وَ وَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡہِ اِحۡسٰنًا ؕ حَمَلَتۡہُ اُمُّہٗ کُرۡہًا وَّ وَضَعَتۡہُ کُرۡہًا ؕ
    অর্থঃ আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।(কারণ) তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। (সূরা আহকাফঃ১৫)

    নাক-কান ফোঁড়ানোর সামান্য সূচ দেখে চিৎকার করা মেয়েটি আপনার প্রোথিত বীজের ফলটিকে আরও নিরাপদে আপনাকে হস্তান্তর করতে অস্ত্রোপচারের কক্ষে বীরাঙ্গনার মতো হেঁটে যায় স্বেচ্ছায় নিজেকে ডাক্তারের ধারালো অস্ত্রের নিচে বলী দিতে, আর ফিরে আসে স্ট্রেচারে পড়ে থাকা আহত ও রক্তাক্ত অবশ দেহটি নিয়ে! কখনোবা সত্যিকারের এই বীরাঙ্গনারা আঁতুড়ঘরের কোণায় কিংবা হাসপাতালের বেডে জীবনের ইতি টেনে নীরবে ওপারে চলে যায়!
    বলুন তো,এই মানুষটিকে ভালো না বেসে থাকা আদৌ সম্ভব কি?

    আপনার স্ত্রী ছিলো একজন বাবার রূপ সচেতন রাজকন্যা,যে বাবার গলা ধরে হরেকরকম প্রসাধনীর জন্য বায়না ধরতো। সৌন্দর্য রক্ষায় আপোষহীন সেই মেয়েটি আপনার সন্তানকে গর্ভে ধারণ করতে নিজের সৌন্দর্যকে চিরদিনের জন্য উৎসর্গ করে। একজন মা কখনোই তার পূর্বের শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্য ফিরে পায় না জেনেও আপনার সেই বীরাঙ্গনা একটুও পিছপা হয়না।
    আপনার কারণে হারানো সেই সৌন্দর্যের জন্য যদি আপনিই খোঁটা দেন তখন কষ্টের তীরটা কিভাবে তার হৃদয়কে ফালি ফালি করে দেবে তা বোঝার জন্য খুব বেশি পরিমাণ বিবেকের প্রয়োজন হয় না!

    গর্ভে সন্তানের অঙ্কুর গজানোর দিন থেক শুরু করে আমৃত্যু মাতৃত্ব থেকে ছুটি না পাওয়া মানুষটিকে ভালো না বেসে পুরুষত্বের দাবী অযৌক্তিক নয় কি? ভাবুন,বিবেকের চক্ষু খুলে শতবার ভাবুন……!

    বিঃদ্রঃ- কোন পুরুষ এভাবে ভাবতে পারে না, আমি চাই আমার লেখাটা যারা পড়বে, তারা অন্তত একবার হলেও আমার লেখার মতো করে ভাবুক। পরিবর্তন আসবেই, আসবে।।

  • নামাজ পড়তেই হবে..!

    কাল হঠাৎ ইউটিউবে সার্চ দিলাম… “নামায কেনো পড়তেই হবে?”
    “ওযুর জন্য পানি নেই, তায়াম্মুম করেন, তায়াম্মুমের ব্যবস্থা নেই, তায়াম্মুম ছাড়াই নামায পড়ুন।
    কিবলামুখী হয়ে নামায পড়তে হয়, কিবলামুখী বুঝতে পারছেন না, যেকোনো দিক হয়েই নামায পড়ুন।
    দাঁড়িয়ে নামায পড়তে পারছেন না? বসে পড়েন। বসে না পড়তে পারলে শুয়ে পড়েন।
    পরিষ্কার কাপড় পড়ে নামায পড়তে হয়। পরিষ্কার কাপড় না থাকলে প্রসাব, পায়খানা লাগা কাপড় পড়েই নামায পড়েন, কোনো কাপড় না থাকলে উলংগ হয়ে নামায পড়েন।
    ট্রেনের প্রচন্ড ভিরে ঝুলে আছেন, আযান দিচ্ছে সেই অবস্থাতেই নামায পড়ুন ।
    নামায কি জিনিস, কি করে বুঝাই, এক আশ্চর্য ইবাদত যে ইবাদত কোনো অসুবিধা মানেনা।
    আপনি অসুস্থ টাকা দিলেন সেই টাকায় হজ্জ করলো অন্যজন। আপনার সাওয়াব হবে।
    আপনি অসুস্থ, ফকির কে খাওয়ালেন আপনি রোযার সাওয়াব পাবেন….
    হজ্জের বিকল্প আছে, রোযার বিকল্প আছে। নামায এমন এক ইবাদত যার কোনো বিকল্প নেই।
    নামায কি জিনিস কি করে বুঝাই?????”
    আমার ভাই বোনেরা,” নামায পড়ুন”
    আপনার জীবনে যাই আসুক, “নামায পড়ুন।”

    আপনার জীবনে যতোই খারাপ কাজ করেন না কেন, পরিমাণে যতই বেশি হোক না কেন, “নামায পড়ুন”।
    কোন ছাড় নেই।
    বোন বলছেন, “আপনি হিজাব পরেন না”,
    আমি আপনাকে বলছি “নামায পড়ুন”
    বোন বলছেন, আমার কাপড় নামাযের উপযোগী নয়।আমি আপনাকে বলছি,”নামায পড়ুন”
    ভাই বলছেন, “আমি মদ পান করি”
    নামায পড়ুন
    “আমি ড্রাগ বিক্রি করি”
    নামায পড়ুন
    “আমি ড্রাগ সেবন করি”
    “নামায পড়ুন”
    “আমার একটি মেয়ে বন্ধু আছে এবং আমি তার সাথে রাত্রি যাপন করি। “
    “নামায পড়ুন”।
    আপনার জীবনে যাই আসুক না কেনো নামায পড়ুন
    “ভাই আমি কিভাবে পাপ কাজ করার পাশাপাশি নামায পড়বো? এটি নামাযের প্রতি অসম্মান জনক ও আমার ভন্ডতা প্রকাশ পায়”
    আমি বলছিনা এজন্যই আমরা নামায পড়ি কারণ আমরা ভালো না, আমি পাপী, আমরা ভুল করছি।
    আপনি তবুও নামায পড়ুন।
    আল্লাহ বলেছেন, “নামায অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।”
    “নামায পড়ুন”
    কিছু মানুষ বলে আমাকে ভালোপথে আসতে দাও। ইন শা আল্লাহ আমি নামায পড়া শুরু করে দিবো।
    বন্ধুরা নামায ব্যতীত আপনি ভালো পথে আসতে পারবেন না। এজন্যই আমরা নামায পড়ি যাতে ভালোপথে আসতে পারি।
    আপনার জীবনে যাই আসুক না কেন, আপনি যেখানেই থাকেন না কেন, নামাজ পড়ুন।

    মনে রাখবেন, আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন, নামাজ পড়তেই হবে..!

    * সংগৃহিত

    *** নামাজ : কোনো বিকল্প নেই

Design a site like this with WordPress.com
Get started