ছবিতোলা কতটা যুক্তিসঙ্গতঃ

ছবি তোলাটা একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে গেছে আমাদের সমাজে। যেই ছবি তোলাকে একসময় মানুষ হারাম (নিষিদ্ধ) মনে করতো এখন সেই ছবির ব্যাপারে কারো মধ্যে বাছবিচার দেখছি না। ছবি তোলার ব্যাপারে দ্বীন ইসলামের অবস্থান কী সেটা এখন বিবেচনা করতেও মানুষ ভুলে গেছে মনে হচ্ছে।

আমরা যখন ছোট ছিলাম, তরুন ছিলাম তখন আমাদের বলা হতো ছবি তোলা যাবে না, পহেলা বৈশাখের মেলায় যাওয়া যাবে না। ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু এই যমানায় কেমন একটা অবস্থায় উপনীত হয়েছি আমরা, তাই না!

আমাদের যমানায় মক্তবের হুযুররা ছবি তোলার ব্যাপারে খুব কঠোর ছিলেন। স্কুলের ইসলাম শিক্ষার শিক্ষকগণও। উনারা একটা হাদীস বলতেন যে, “যেই ঘরে প্রানির ছবি টাঙ্গানো থাকে ও কুকুর প্রবেশ করে, সেই ঘরে আল্লাহর রহমত থাকে না। ” অর্থাৎ সেই ঘর রহমতশূণ্য!

তাই ঘরে ছবি টাঙ্গানো থাকলে হুযুরেরা ঐ ঘরে নামাজ পড়তেন না। ছবি ফেলে দিয়ে তারপর নামাজ পড়তেন।
ঐসব হুযুরদের অনেক কারামতও আমরা লক্ষ করতাম! অনেক পরহেজগার ছিলেন উনারা।

২০০৮/৯ সাল পর্যন্ত দেখেছি প্রায় সব ঘরানার হুযুরেরা ছবি তোলাকে অপছন্দ করতেন এবং ছবি তোলা হারাম বলে ফতওয়া দিতেন।

কিন্তু আজকের যমানায় এসে কেমন যেন ছবির পতওয়া পরিবর্তন হয়ে গেলো! আমাদের আলেম ওলামাদের বড় একটা অংশই এখন ছবি তোলাকে খুবই স্বাভাবিক হিসেবে নিয়ে নিয়েছেন। প্রয়োজনে- অপ্রয়োজনে সব জায়গায়ই উনারা ছবি তোলেন। আগে যাদের বাবা-দাদারা ছবি তোলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন এখন উনাদের সন্তানরা ছবি তোলাকে হালাল করে নিয়েছেন মনে হচ্ছে। এটা বিবেচনায় নেয়া উচিত। (একটুয়ালি আমি জানিনা- উনারা হালাল হিসেবে তুলছেন নাকি হারাম জেনে তুলছেন!)

কারো বিরুদ্ধে বলা আমার উদ্দেশ্য নয়। ছবি তোলার ব্যাপারে পূর্বের যমানা ও এই যমানার একটা পার্থক্য তুলে ধরলাম শুধু!

মসজিদে নববীর ভিতরের অংশ

Comments

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started